শেষরাতে বসে বসে গতজীবনের স্মৃতিচারণ করছি। ভোর হয়ে এলো প্রায়। অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে লাভ কী? কপাল বেয়ে ঘামে বালিশ ভিজে যাচ্ছে। দখিনের জানালা খুলতেই হুহু করে বাতাস আসতে লাগল, আবহাওয়া সুন্দর, স্বাস্থ্যপ্রদ হাওয়া। চোখ বন্ধ হতেই আশ্চর্য সব স্বপ্ন হাজির।
বাতাসে কোনো শব্দ নেই, পায়ের কিংবা ঝড়া পাতার মর্মরেরও না, দূর থেকে শুধু কুকুরের
ফাঁকা ঘেউ ঘেউ ভেসে আসে। মৃত্যুস্তব্ধতার জাল কেটে আমি পশ্চিমে হেঁটে চলেছি। পিছন পিছন
কে যেন আসছে, ঘুরে তাকাতেই লোকটা লম্বা লম্বা পা ফেলে হারিয়ে গেল।
কে হতে পারে?
মৌলানা সাহেব মানুষকে ইবাদতের জন্য ডাকতেছে?
আমাকে না বলেই চলে গেলো কেন?
সামনের ঐ খালি মাঠটা একসঙ্গে পার হলেই পারতাম। খালি মাঠে গ্যাসের আগুন জ্বলতে দেখে
গ্রামবাসী ভূত ভূত করা শুরু করলো, সেই থেকে ঐ মাঠে একা হাঁটতে ভয় করে।
কিছুদূর যেতেই আবার দেখা তাঁর সাথে।
লম্বা পাঞ্জাবি, ঘন সাদা চুল, মুখে সাদা চাপ দাড়ি, হাতে মুসার লাঠি। রাস্তার পাশে
কেটে রাখা গাছে বসে অনেক কথা বললাম দুজনে।
দ্বীর্ঘশ্বাসে সব আলাপ শেষ করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কি চাই আমি?
আমি কি চাইতে পারি?
টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, জমিজমা, বাড়ি-গাড়ি?
রাষ্ট্রযন্ত্রকে কি জবাব দিব?
অনেকদিন হলো চারদেয়ালে বন্দী
তবে পৃথিবীটাই ঘুরে আসি। কোথায় যাওয়া যায়?
আলাস্কার ম্যান্ডেলহল বরফের গুহায়?
না-কি বলিভিয়ার বিস্তির্ণ লবণ ভূমিতে স্কেটিং করবো? মাউন্ট রোরাইমে গিয়ে মেঘ ছুঁবো?
কিন্তু থাকার জায়গা কই?
তারচেয়ে সান্তোরিনির ঝড়ো আকাশের নিচের নীল রঙের অর্ধ গোলাকার ছাদের বাড়িতে-
কুকুরগুলো এতো চিৎকার করছে কেন?
(১৭.০৯.২০২০)
Onk sundor
ReplyDelete